‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ এ প্রমাণিত ‘আমাদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না’

৭ মার্চ, ২০২২ ০৯:৪৫  
মাত্র ১৮ মিনিটের ভাষণ। স্বল্প সময়ে তিনি ইতিহাসের পুরো ক্যানভাসই তুলে ধরেন বঙ্গবন্ধু। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতেও সেই ভাষণ এখনো জীবন্ত। প্রাসঙ্গিকতায় এক মহাকাব্য। রেসকোর্সের ময়দানের লাখো জনতার সামনের সেই ভাষণ আজ পৌঁছে গেছে হাজার কোটি মানুষের সামনে। সাদা-কালো হয়ে নয়; রঙিন অবয়বে ভাষণটিকে এরই মধ্যে জীবন্ত করে তুলেছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। ভাষণের ১৪ মিনিটের ভিডিও’র মধ্যে ১২ মিনিটকে রঙ্গিন করে উপস্থাপন করা হয়ে।  এরপর থেকেই নেটদুনিয়া হয়ে আগামী প্রজন্মের রক্তে মিশে যাচ্ছে এই অমোঘ বাণী। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে তারুণ্যের শক্তি ছুটছে সেই তর্জনী লক্ষ্য করে। সেই বাণী অনুসরণ করে ২০২১ এর রূপকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে আজ বাংলাদেশ হয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশ। স্বাধীনতা পরবর্তী ২১ বছর বাদে তার দেয়ে পথ নকশা দিয়ে তারই জ্যৈষ্ঠ কন্যা একের পর এক রূপকল্প দিয়ে বাস্তবায়ন করে চলেছেন। যার ফলশ্রুতিতে সরকারি সেবা নিতে এখন কমেছে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য। সেবা মিলছে নাগরিকের হাতের মুঠোয়। প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদকেন্দ্রিক কার্যক্রম চালু হলেও বর্তমানে পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, গার্মেন্টসকর্মী এবং প্রবাসী নাগরিকদের জন্য আলাদা ডিজিটাল সেন্টার চালু হয়েছে। সারা দেশে ৮ হাজার ২৮০টি ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে ৩০০–এর অধিক ধরনের সরকারি-বেসরকারি সেবা মানুষ গ্রহণ করতে পারছেন। দেশে এখন মোবাইল সংযোগের সংখ্যা ১৮ কোটির অধিক। ইন্টারনেট ব্যবহারকারী প্রায় ১৩ কোটি। ৫২ হাজারেরও বেশি ওয়েবসাইটের জাতীয় তথ্য বাতায়নে যুক্ত রয়েছে ৯৫ লাখেরও অধিক বিষয়ভিত্তিক কনটেন্ট এবং ৬৮৫টির বেশি ই-সেবা সহজেই মানুষ অনলাইনে পাচ্ছেন। ৮ হাজার ২৮০টি ডিজিটাল সেন্টার থেকে ৬০ কোটির অধিক এবং জাতীয় হেল্পলাইন ৩৩৩–এর মাধ্যমে ৭ কোটির বেশি সেবা দেওয়া হয়। ডিজিটাল সেন্টার, জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও মাইগভ থেকে প্রতি মাসে সেবা গ্রহণকারীর সংখ্যা ৭৫ লাখ। বর্তমানে আইসিটি খাতে রফতানি ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অনলাইন শ্রমশক্তিতে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। প্রায় সাড়ে ৬ লাখ ফ্রিল্যান্সারের আউটসোর্সিং খাত থেকে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করছে। নারীর ক্ষমতায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ১০ হাজার ৫০০ নারীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ২০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। প্রযুক্তি দক্ষ জনবল তৈরি এবং শিল্প গড়ে তুলতে এরই মধ্যে স্থাপিত হয়েছে ৩৯টি হাই–টেক পার্ক । সরকারের বিভিন্ন নীতি–সহায়তার ফলে দেশি-বিদেশি ১৪টি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে মুঠোফোন ও ল্যাপটপ উৎপাদন করছে। করোনা মহামারিতে যখন পৃথিবী অস্থির, তখন সরকারের বিভিন্ন ডিজিটাল উদ্যোগ মানুষকে দেখিয়েছে নতুন পথ। করোনাকালে ভার্চ্যুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠক, আদালতের কার্যক্রম, অফিস, ব্যবসা-বাণিজ্যের কার্যক্রমসহ প্রায় সবকিছুই চলমান রাখা হয়। প্রযুক্তির সহায়তায় করোনা সচেতনতা, বিভিন্ন দিকনির্দেশনা, স্বাস্থ্যসেবাসহ সব ধরনের সেবা দেশের কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে। আর এর সবাই সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান, কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশের যে ভিত্তি তৈরি করে গেছেন তার ওপরেই। বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র হয়ে এখন মহাকাশে উড়ছে বাংলাদেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট। কাব্যময় ভাষায় তার দেয়া ভাষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশ আজ নিজেদের শক্তিমত্তা দিয়ে একের পর এক নিজেদের সমস্যার টেকসই সমাধান তৈরি করছে তরুণ প্রজন্ম। সব মিলিয়ে ডিজিটাল নৌকায় চড়ে বাংলাদেশ আজ পৌঁছে গেছে এক অনন্য উচ্চতায়। তাঁর উদাত্ত উচ্চারণ ‘আমাদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না’ এর মতো দাবিয়ে রাখতে পারেওনি। তাঁর কৌশলী ভাষণের মতোই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে নেতৃত্ব দিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ডিজিটাল বাংলাদেশ।